ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট একটি আমানত, তা সঠিক ব্যক্তিকে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব এবং ইসলামের নির্দেশ। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ভোটের আমানত জলাঞ্জলি দেওয়া অনৈতিক ও দ্বিনি শিক্ষার পরিপন্থী। ভোটারের দ্বিনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা না থাকলে দেশের অধঃপতন অনিবার্য। সমাজের বেশির ভাগ মানুষ ভোটকে নিছক পার্থিব বিষয় মনে করে, অথচ এটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত এবং প্রয়োগে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)
ব্যক্তিস্বার্থে ভোট নয়
ভোটাধিকার প্রয়োগে যদি মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে দেশ ও জাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। ভোটার যদি দেশ ও জাতির স্বার্থ বিবেচনা না করে ভোট দেয়, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কখনো দূর হবে না।
মানুষের জীবনযাত্রার মানও কখনো উন্নত হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমানত বিনষ্ট হয় তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)
ভোট বিক্রয়যোগ্য নয়
ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষরাই বেশি ভুল করে থাকে। অনেকেই এই সময়টাকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ মনে করে।
তারা সামান্য অর্থের বিনিময়ে এমন ব্যক্তি ও দলে ভিড়ে যায়, তাদের পক্ষে স্লোগান দেয় এবং মিছিল করে যাদের সে নিজেও অন্তর থেকে পছন্দ করে না। এমনকি এই ব্যক্তির সব দোষত্রুটি জানার পরও তার পক্ষে ভোট চায় এবং ভোট দেয়। ফকিহ আলেমরা বলেন, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তি ও পাপিষ্ঠকে ভোট দেওয়া এক প্রকারের ঘুষ। এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৭)
পক্ষ নেওয়ার আগে লক্ষ করুন
কোনো ব্যক্তির পক্ষে মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া এবং তার পক্ষে ভোট চাওয়া এক প্রকারের সাক্ষ্য। কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়াও সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা বর্জন করো মূর্তি পূজার অপবিত্রতা এবং দূরে থাকো মিথ্যা কথা থেকে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাবধান হও মিথ্যা কথার ব্যাপারে এবং তোমরা সাবধান হও মিথ্যা সাক্ষ্যের ব্যাপারে (অর্থাৎ তোমরা পরিহার কোরো)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৬)
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, কাউকে ভোট দেওয়া এবং কারো পক্ষে প্রচারণা চালানো সুপারিশের মতো। আর সুপারিশ করার আগে ব্যক্তি তার যোগ্য কি না সেটাও বিবেচনা করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৫)
তাসফিরবিদরা বলেন, উত্তম সুপারিশ হলো যা যোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয় এবং মন্দ সুপারিশ হলো যা অযোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয়। এ জন্য আলেমরা বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে জয় লাভ করবে কি না সে বিবেচনা না করে প্রার্থী যোগ্য কি না সেটা বিবেচনা করা উচিত। কেননা যোগ্য প্রর্থীকে ভোট দেওয়ার পর সে যদি পরাজিতও হয়, তবু উত্তম সুপারিশ করার সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে যারা অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেবে, সে অযোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করার কারণে গুনাহগার হবে। অযোগ্য প্রার্থী কোনো অন্যায় করলে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভোটারকেও দায় বহন করতে হবে।
প্রার্থীর দ্বিনদারিও বিবেচ্য বিষয়
প্রার্থী নির্বাচনে একজন মুসলমান প্রার্থীর বাহ্যিক যোগ্য ও দক্ষতার পাশাপাশি তার দেশপ্রেম, কল্যাণকামিতা, নীতি-নৈতিকতা ও দ্বিনদারির দিকগুলোও বিবেচনা করবে। যারা প্রকাশ্যে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা, দ্বিন, শরিয়ত, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলে প্রতি ধৃষ্টতা দেখায় তাদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। দুই প্রার্থীর ভেতরে যে দ্বিনদারির ক্ষেত্রে অগ্রগামী মুসলমান তাকেই প্রাধান্য দেবে। যারা দেশদ্রোহী, যারা দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত, যারা অন্যায় ও জুলুমের সঙ্গে জড়িত তাদেরও ভোট দেওয়া যাবে না। কোনো প্রার্থীই যদি যোগ্যতা, দ্বিনদারি ও দেশপ্রেমের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ না হয়, তবে ভোট দান থেকে বিরত থাকা যাবে, এমনকি না ভোটও দেওয়া যাবে।
প্রার্থী কারা হবে, কারা হবে না
যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয় তারা মূলত পুরো জাতির সামনে দুটি বিষয়ের দাবি করে। এক. সে এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য এবং এই দায়িত্ব পালনে আগ্রহী, দুই. সে এই দায়িত্ব যথাযথভাবে আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করবে। এই দাবির ক্ষেত্রে সে যদি সত্যবাদী হয় তবে তো ভালো, কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দাবি মিথ্যাও হতে পারে। তাই উত্তম হলো সমাজের একদল দ্বিনদার ও আল্লাহভীরু মানুষ সম্মিলিত পরামর্শের মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা এবং তাকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করা। কেননা আল্লাহ না করুন সে যদি নিজেই প্রার্থী হয় এবং নিজেকে যোগ্য ঘোষণা করে আর পরে সে ব্যর্থ হয়, দুর্নীতি করে, তবে সে আল্লাহর দরবারে খিয়ানতকারী হিসেবেই বিবেচিত হবে। মানুষের অধিকার নষ্ট করার কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থিতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটা হলো অসংখ্য ও অগণিত মানুষের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নেওয়া। যার ভেতর এই দায়িত্ব পালনের সৎ সাহস নেই, তার উচিত নয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, হে আবদুর রহমান, তুমি কখনো নেতৃত্ব চেয়ে নিয়ো না। কেননা তুমি যদি চেয়ে নিয়ে তা লাভ করো, তাহলে তোমাকে ওই দায়িত্বের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে (তুমি দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাবে, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাবে না)। আর না চাইতেই যদি তা পাও তাহলে তুমি সে জন্য সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৭)
প্রার্থীদের আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। তা হলো তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। আর প্রতিনিধির আরবি হলো উকিল। জনগণ ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীকে নিজের এবং এলাকার উকিল বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। আর প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো তার মক্কেল বা নিযুক্তকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা এবং মক্কেলের স্বার্থ রক্ষা করা। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
ভোট দেওয়া দ্বিনি দায়িত্ব
ওপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো ভোট সাক্ষ্য, ভোট আমানত, ভোট সুপারিশ এবং ভোট উকিল নিযুক্ত করার মাধ্যম। শরিয়তের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে, আমানত নষ্ট করলে, মন্দ সুপারিশ করলে এবং অযোগ্য উকিল নিযুক্ত করলে যেমন গুনাহ হয়, তেমনি সত্য সাক্ষ্য দেওয়া, আমানত আদায় করলে, উত্তম সুপারিশ করলে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। আল্লাহ মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেয়, তারা ছাড়া।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৮৬)
অনেক দ্বিনদার ব্যক্তি ভোট দেওয়াকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, কিন্তু গবেষক আলেমরা বলেন, ভোট দেওয়া একটি নৈতিক ও দ্বিনি দায়িত্ব। কেননা কোনো দ্বিনদার ব্যক্তি যদি ভোট দান থেকে বিরত থাকেন, তবে একজন যোগ্য প্রার্থীই ভোটপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন এবং দুর্নীতিবাজদের পাল্লা ভারী হয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না, যে কেউ তা গোপন করে অবশ্যই তার অন্তর পাপী। তোমরা যা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৩)
আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
ইসলামিক কার্টুন বাংলা | শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ইসলামিক স্টোরি | Islamic Cartoon Bangla
সাঈদ আহমাদ কলরব | হৃদয় ছোঁয়া ইসলামিক কলরব | Saeed Ahmad Kolorob Bangla Islamic Song
আরবি শেখা সহজ পদ্ধতিতে | Arabic Shikha from Basic | Atiya Jahan Tutorial
আরবি হরফ পরিচিতি ও শিক্ষা | Arbi Horof Shikha Bangla | Learn Quran Easily Step by Step
হৃদয় কাঁপানো ইসলামিক উক্তি || Islamic Quotes in bangla || ইসলামিক বাণী
live আমেরিকায় আজহারীর প্রথম মাহফীল। মিজানুর রহমান আজহারীর | mizanur rahman azhari
Abu Taha Muhammad Adnan | হৃদয় ছোঁয়া ইসলামিক বক্তৃতা | Bangla Waz
বাছাইকৃত সেরা গজল | হৃদয়ছোঁয়া ইসলামী গজল সংকলন | Best Islamic Ghazal Collection
আগে নামাজ পড়ে আসেন তারপর কাজ শুরু করুন l
If you have prayed, it is very important to pray. Pray first and then start working.

Chat On WhatsApp
📲 Chat On WhatsApp
Please Contact with us for more details.
✅ Our Services Contact Info:
📞 Phone: +8801566058831
💬 WhatsApp: wa.me/8801933307999
🎧 Skype: azadarch
🌐 Website: www.azadservice.com
📢 Telegram: https://t.me/Azadservice
📩 Email: azadarc@gmail.com
🌍 Follow & Connect With Us:
▶️ YouTube Channel:
https://www.youtube.com/@DropshippingService?sub_confirmation=1
👨💻 Virtual Assistant Services:
www.azadservice.com/category/virtual-assistant/
👥 Facebook Group:
https://www.facebook.com/groups/854505676275341/
📘 Facebook Page:
https://www.facebook.com/independentservice.today
💼 LinkedIn:
https://www.linkedin.com/in/azadservice/
📸 Instagram:
https://www.instagram.com/azadservicebd/
📌 Pinterest:
https://www.pinterest.com/azadservice/
🐦 Twitter/X:
https://twitter.com/azadservicebd
🎵 TikTok:
https://www.tiktok.com/@azadservices

+ There are no comments
Add yours